Newzbangla Job : রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সমস্ত প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর এবং তাঁদের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত শ্রেণির (Category) উল্লেখ করে ব…
Newzbangla Job : রাজ্য পুলিশের কনস্টেবল পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে বড়সড় পদক্ষেপ করল কলকাতা হাইকোর্ট। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সমস্ত প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর এবং তাঁদের নির্দিষ্ট সংরক্ষিত শ্রেণির (Category) উল্লেখ করে বিস্তারিত তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিল আদালত। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই তালিকা জনসমক্ষে আনতে হবে বলে সাফ জানিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
মঙ্গলবার এই মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানান, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনও অস্পষ্টতা রাখা চলবে না। মামলাকারীর অভিযোগ ছিল, এর আগে যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছিল, তাতে প্রার্থীদের বিস্তারিত তথ্য বা প্রাপ্ত নম্বরের উল্লেখ ছিল না। এই প্রেক্ষিতেই আদালত প্রশ্ন তোলে— লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের সবিস্তার তালিকা প্রকাশ করতে সমস্যা কোথায়? এর পরেই আদালত নির্দেশ দেয় যে, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সাত দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
২০২৪ সালের নিয়োগ বিধি অনুযায়ী রাজ্য সরকার কনস্টেবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। সেই মতো গত ডিসেম্বরে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পরে উত্তীর্ণদের একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় পাসের পর প্রার্থীদের শারীরিক মাপজোক (PMT) ও দক্ষতা পরীক্ষায় (PET) বসতে হয়।
তবে মামলাকারীদের দাবি ছিল, প্রকাশিত তালিকায় তথ্যের অভাব রয়েছে, যার ফলে প্রকৃত মেধা যাচাই বা স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। হাইকোর্টের এই নতুন নির্দেশের ফলে এখন থেকে প্রত্যেক প্রার্থীর নম্বর ও ক্যাটেগরি স্পষ্ট করা বাধ্যতামূলক হলো।
হাইকোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশের সারমর্ম (ফেব্রুয়ারি ২০২৬)
- নম্বর বিভাজনসহ তালিকা: বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দিয়েছেন যে, লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬০,১৭৮ জন প্রার্থীর প্রাপ্ত নম্বর এবং তাঁদের ক্যাটেগরি (সংরক্ষিত শ্রেণি) উল্লেখ করে স্পষ্ট তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
- সময়সীমা: এই তালিকা আগামী ৭ দিনের মধ্যে জনসমক্ষে আনতে হবে।
- মামলার কারণ: রাজ্য সরকার আগে যে তালিকা প্রকাশ করেছিল, সেখানে প্রার্থীদের প্রাপ্ত নম্বর বা ক্যাটেগরি উল্লেখ ছিল না। একে 'অস্বচ্ছতা' দাবি করে প্রার্থীরা আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা
- শূন্যপদ: মোট ১১,৭৪৯টি (প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে ১০,২৫৫টি থাকলেও পরে তা বৃদ্ধি পায়)।
- লিখিত পরীক্ষা ও ফলাফল: ২০২৪-এর শেষে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছিল এবং ডিসেম্বরে এর ফলাফল প্রকাশিত হয়।
- পরবর্তী ধাপ: লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬০ হাজারেরও বেশি প্রার্থীকে শারীরিক মাপজোক (PMT) এবং শারীরিক দক্ষতা পরীক্ষার (PET) জন্য ডাকা হয়েছিল, যা জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হওয়ার কথা।
নিয়োগের ধাপসমূহ (Selection Process)
এই নিয়োগ মূলত চারটি প্রধান স্তরে সম্পন্ন হয়:
- লিখিত পরীক্ষা (Written Exam): ৮৫ নম্বরের মাল্টিপল চয়েস প্রশ্ন (MCQ)।
- PMT ও PET: উচ্চতা, ওজন পরীক্ষা এবং দৌড় (এটি কোয়ালিফাইং রাউন্ড, কোনো নম্বর যোগ হয় না)।
- ইন্টারভিউ (Interview): ১৫ নম্বরের ব্যক্তিত্ব যাচাই।
- মেডিকেল ও ভেরিফিকেশন: চূড়ান্ত নির্বাচনের পর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চারিত্রিক শংসাপত্র যাচাই।

No comments